• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

দিনাজপুরের চানাচুর বিক্রিতে জামালের কথা

Jamal Uddin Pic-003মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুুরে ৮০ বছর বয়সেও সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন বৃদ্ধ জামাল উদ্দীন। গত ৫০ বছর ধরে তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করছেন। পেটের কারণে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে সেই ভোর থেকেই সাত মিশালীর সরঞ্জামসহ ভ্যান নিয়ে বের হতে হয়। জামাল উদ্দীন দিনাজপুর পৌর শহরের বালুবাড়ী ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার বাসিন্দা।
বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের জন্ম ১৯২৯-৩০ সালের দিকে। যখন তার বয়স ২৪-২৫ বছর তখন থেকে তিনি সংসারের হাল ধরেন। সংসারের খরচ চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে এসে তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রির পেশা বেছে নেন। সেই থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যেই তার চানাচুর বিক্রির বয়স ৫০ বছর অতিক্রম করেছে।
দিনাজপুর মিউসিপ্যাল হাই স্কুল (বাংলা স্কুল) এর গেটের সামনে তিনি সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রি করেন। সকাল থেকে স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত এখানে দোকানদারী করেন। তার ক্রেতা বাংলা স্কুল ও জিলা স্কুলের ছাত্ররা। স্কুল ছুটির পর তিনি দিনাজপুর বড় মাঠে চলে যান। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে সাত মিশালী ও চানাচুর বিক্রি করেন। এছাড়া স্কুল বন্ধ থাকলে বড় মাঠেই দোকানদারী করেন। রাতে তিনি চোখে কম দেখেন। তাই সর্যাস্তের আগেই তিনি বাড়ী ফিরে যান।
বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের ২ ছেলে ২ মেয়ে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ে হওয়ার পর তারা নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাদের সংসারের খরচ চালাতেই কষ্ট হয়। তাই বৃদ্ধ পিতার খবর রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বাধ্য হয়েই জীবন সায়াহেœ এসে তিনি আজো তার সাতমিশালী ও চানাচুর বিক্রির পেশাটি ধরে রেখেছেন।
বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের সাথে বাংলা স্কুলের গেটে কথা হলে তিনি জানান, আর তো কিছু করতে পারবো না। তাই জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এই সাত মিশালী ও চানাচুর বিক্রি করেই বেঁচে থাকতে চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ